Friday, December 20, 2013

শেষ বিকেলের গদ্য
 সময় আছে আর মাত্র দুই ঘন্টা। ১১০ কিলোমিটার দুই ঘন্টায় কোনভাবেই পৌঁছানো সম্ভব না! ব্যাগটাই গোছানো হয়নি এখনও। পাসপোর্ট, টিকেট কিচ্ছু খুঁজে পাচ্ছি না! তাড়াহুড়োয় সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে! এতদিন ছিলাম কিন্তু একবারও দেখাই হলো না মুখগুলো। কত কী করার ছিল, কত কী বাকী রয়ে গেল! অসংখ্য প্রজাপতির গুঞ্জন ঠিক শরীরের মাঝ বরাবর! মাথার উপরের ছাদটি মরা মাছের মত চোখ মেলে আমাকে দেখে। কিছুটা স্বস্তি, কিছুটা অবসন্নতা নিয়ে পরিচিত বিছানা, চেনা-অচেনা আলো পরিমাপ করার চেষ্টা করি। নাহ, আমি যেখানে ছিলাম সেখানেই দিব্যি আছি। কোথাও যাইনি আমি, কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই আমার। ইদানীং কোন সেই সুদূরের ফেলে আসা অলি-গলিতে আবার ঘুরে বেড়াই। আমার ভাঙ্গাচোরা সোঁদা গন্ধওয়ালা গলিকে আমি উৎকন্ঠিতভাবে বারবার জিজ্ঞেস করি-“আমি আছি তো তোমার সাথে?”। আমার অন্ধগলি মুচকি হেসে আস্বস্ত করে-“তোমার ওই ভাবলেশহীণ দেয়াল, শূন্য ছাদ, মরাটে আলো-সব মিথ্যে!” আমি খুশি হয়ে সাদা আর কালো কড়ই গাছের গায়ে হাত বুলাই। গতরাতের বৃষ্টিভেজা উঠোনে খালি পায়ে হেঁটে বেড়াই। গন্ধরাজের সাথে কুশল বিনিময় করি। ঠিক তখনই হঠাৎ করে টের পাই, আমার চোরা গলি আমাকে মিথ্যে বলেছে! নিত্যদিনের মতো হলদে দেয়াল শব্দহীন। বেলীর গন্ধে কোন তীব্রতা নেই। বকুলের উষ্ণশ্বাস শুষে নিয়েছে হাজার কিলোমিটার পথ। তবুও আমি একটি ফানুস নিয়ে রংধনু গোধূলীর অপেক্ষায় থাকি। হাঁসের হলুদ ছানাটির মত নরম তুলতুলে রোদের গায়ে নিঃশব্দ তুষারের ভাষা বোঝার চেষ্টা করি। খুব ইচ্ছে হলে দলছুট নিঃসংগ পাখিটির এক পায়ে ঘুঙ্গুর বেঁধে দেই। তারপর লোহার গরাদে দেওয়া শিক গলে, দেয়ালে জন্মানো সবুজ শ্যাওলার শরীরে আঁকিবুঁকি কাটি। কোন কোন অর্থহীন কোলাহলে বেসুরো উৎকট সন্ধ্যায় নিয়ন আলোর নীচে গিয়ে দাঁড়াই। আলো-আঁধারে খুব করে কাউকে খুঁজে পেতে নিয়ে জানাতে ইচ্ছে করে-“আমার কখনোই বেশি কিছু বলার ছিলনা।” কিছুই শেষপর্যন্ত বলা হয়ে উঠেনা। ফ্যাসফ্যাসে গলা থেকে উঠে আসে কিছু কর্কশ খসখসে স্বর! নিজের কানেই বড় তীক্ষ্ণ হয়ে বাজে। কেউ বলেনি কখনো-আবার এসো, তবুও প্রতিদিন বেলাশেষে আমি ফিরে যাই আমার কানাগলিতে। কেউ ডাকেনি কখনো, তবু পিছু ফিরি বিকেলবেলায়।